Monday, May 14, 2018

আপত্তি : আমার আলামত দশ লক্ষ। (রুহানী খাযায়েন ২১/৭২) রসূলুল্লাহ্(সা.)-এর মু’জিযা তিন হাজার। (রুহানী খাযায়েন ১৭/১৫৩)

উত্তর: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সা.)-এর দাসত্বে আল্লাহ্ তা’লার নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসাবে দাবি করেছেন। আর আল্লাহ্কে এ যুগে লাভ করার একমাত্র পথ হিসেবে মহানবী(সা.)-এর পূর্ণ অনুসরণ ও অনুগমনকে তিনি বার বার তাঁর পুস্তকাদিতে উল্লেখ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য সূরা আলে ইমরানের আয়াতের সাথে হুবহু মিল খায়। সূরা আলে ইমরানের ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّـهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّـهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّـهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ তুমি বলে দাও, তোমরা যদি আল্লাহ্র ভালোবাসা চাও তাহলে আমার অনুকরণ অনুসরণ কর তাহলে আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। অতএব, মুহাম্মদ(সা.)-এর পর আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের একমাত্র পথ হযরত মুহাম্মদ(সা.)-এর আনুগত্য। হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.)-এর দ্যার্থহীন বক্তব্য শুনুন,

আপত্তি: মুহাম্মদী বেগম এবং মির্যা আহমদ বেগ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয় নি।

আপত্তিকারীরা দু’টি ভবিষ্যদ্বাণী উল্লেখ করে আপত্তি করে থাকেন। এই দু’টি ভবিষ্যদ্বাণী পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। একটি ভবিষ্যদ্বাণী সম্বলিত ইলহাম হল, بکر و ثیبবিকরুন ওয়া সাইয়্যেবুন। মির্যা সাহেব এর উল্লেখ করে নিজে বলেছেন, তার সাথে একজন কুমারী নারীর বিয়ে হবে এবং পরে আরেকজন বিধবা নারীর সাথে বিয়ে হবে। আর অপর ইলহামটি হল, মুহাম্মদী বেগমের সাথে বিয়ে সংক্রান্ত। তার মূল আপত্তি হল, মির্যা সাহেব নিজে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, তার সাথে এক বিধবা নারীর তথা মুহাম্মদী বেগমের বিয়ে হবে। এই ভবিষ্যদ্বাণীটি বাস্তবায়িত হয় নি। উত্তর: মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) এক যুগ পর্যন্ত এমনটিই বুঝেছিলেন একথা সত্য। মির্যা সাহেব প্রাথমিক পর্যায়ে بکر و ثیب ‘বিকরুন ওয়া সাইয়্যেবুন’ ইলহাম অনুযায়ী মনে করতেন, তাঁর সংসারে একজন কুমারী তাঁর স্ত্রী হয়ে এসেছেন অর্থাৎ হযরত নুসরত জাহান বেগম(রা.) এবং আরেক জন বিধবা তাঁর স্ত্রী হয়ে আসবেন অর্থাৎ ভবিষ্যদ্বাণীর শর্ত পূরণ হলে মুহাম্মদী বেগম স্ত্রী হয়ে তাঁর ঘরে আসবেন। উভয় ভবিষ্যদ্বাণী কাছাকাছি সময়ে প্রাপ্ত হওয়ায় মির্যা সাহেব উপরোক্ত ব্যাখ্যাই সকলকে অবগত করেছেন।بکر و ثیب ‘বিকরুন ওয়া সাইয়েবুন’-এর অর্থ নিরূপন করার জন্য মুহাম্মদী বেগমের ভবিষ্যদ্বাণীটির সত্যাসত্য জানা আবশ্যক। এই দু’টি ভবিষ্যদ্বাণী যাচাই করতে গিয়ে সর্বপ্রথম মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) রচিত গ্রন্থে মুহাম্মদী বেগম সংক্রান্ত যে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে তা তুলে ধরছি।

আপত্তি: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) রূহানী খাযায়েন ১৮শ খণ্ডে ২২৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘আল্লাহ্ আমার হাতে বয়াত গ্রহণ করেছেন’।

উত্তর: এমন কোন দাবিই মির্যা সাহেব করেন নি! ডাহা মিথ্যাকথা। আল্লাহ মিথ্যাবাদীর প্রতি লানত করুন। প্রিয় পাঠক, রূহানী খাযায়েন ১৮শ খণ্ডের ২২৭ নম্বর পৃষ্ঠায় হযরত মির্যা গোলাম আহমদ(আ.) তাঁর কয়েকটি আরবী ইলহাম প্রকাশ করেছেন। খোদার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এসব ইলহামের মাঝে একটি বাক্য হল, ‘ইন্নি বায়া’তুকা বায়া’নী রাব্বী’। এ থেকে আপত্তিকারী যে বিকৃত অর্থ বের করেছেন তা মোটেও ধোপে টেকে না। কেননা,

আপত্তি: মির্যা সাহেব লিখেছেন “স্বপ্নে দেখলাম, আমি খোদা এবং বিশ্বাস করলাম আসলেই তাই। (রুহানী খাযায়েন ৫/৫৬৪)” অর্থাৎ মির্যা সাহেব আল্লাহর অবমাননা করেছেন, নাউযুবিল্লাহ।

উত্তর: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) রচিত ‘আয়েনায়ে কামালাতে ইসলাম’ গ্রন্থের ৫৬৪ নম্বর পৃষ্ঠার আরবী অংশে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) একটি স্বপ্নের উল্লেখ করেছেন। চলুন, প্রথমে তাঁর লেখা আরবী অংশের অনুবাদটি দেখে নেয়া যাক।
তিনি (আ.) বলেন, আমি স্বপ্নে নিজেকে আল্লাহ্ হিসাবে দেখেছি এবং দৃঢ় প্রত্যয় জন্মাল আমিই তিনি। আর আমার নিজস্ব কোন ইচ্ছা, চিন্তা বা আচরণ অবশিষ্ট থাকল না, আর আমি  কানায় কানায় পরিপূর্ণ একটি পাত্রের মত হয়ে গেলাম বরং এমন একটি বস্তুর মত হয়ে গেলাম যাকে আরেক সত্তা বগলদাবা করে এমনভাবে নিজের মাঝে লুকিয়ে ফেলেছে যার ফলে তার নিজস্ব কোন অস্তিত্ব বা গন্ধ বলে কিছুই রইল না আর সে তাঁর মাঝে বিলিন হয়ে গেল...’ 
‘...আর আমার আল্লাহ্-রূপে নিজেকে দেখার অর্থ হচ্ছে কায়ার দিকে ছায়ার প্রত্যাবর্তন। খোদা-প্রেমিকদের সাথে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটেই থাকে। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হল, আল্লাহ যখন কোন মঙ্গল সাধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তখন যেভাবে তাঁর ইচ্ছা পরিকল্পনা ও প্রজ্ঞা চায়, সেভাবে তা পূর্ণ করার লক্ষে আমাকে তাঁর উদ্দেশ্য ও একত্ববাদের বিকাশস্থলে পরিণত করেন। সৎকর্মশীল, কুতুব ও সিদ্দীকদের সাথে তিনি এ ধরনেরই আচরণ করে থাকেন।’ 
হযরত মির্যা সাহেব শেষে গিয়ে বলছেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে আমি ‘ওয়াহদাতুল ওয়াজুদ’ (সর্বেশ্বরবাদ) মতবাদে বিশ্বাসীদের ধারণাকে বুঝাই না আবার এর মাধ্যমে আমি ‘হুলুলিয়্যিন’ (অর্থাৎ আক্ষরিকভাবে খোদা কারো মাঝে প্রবিষ্ট হয়ে যান এমন) মতবাদে বিশ্বাসীদের ধারণাকেও বুঝাচ্ছি না বরং এ ঘটনাটি ঠিক তেমনই যেমনটি মহানবী(সা.)-এর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে অর্থাৎ নফল ইবাদতের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বুখারী শরীফে যে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে-সে কথাই বুঝিয়েছি।” 
পাঠকবৃন্দ, এ পুরো বিষয়টি হযরত মির্যা সাহেবের স্বপ্নে দেখা একটি দৃশ্য। হযরত মির্যা সাহেব তার দেখা স্বপ্ন তুলে ধরেছেন এবং এর পাশাপাশি

Wednesday, May 9, 2018

আপত্তি : যিল্লি (ছায়া) নবুওয়াত মসীহ মওউদের (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) পা-কে পিছনে সরায়নি। বরং সামনে বাড়িয়েছে এবং এত সামনে বাড়িয়েছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাঁধ বরাবর এনে দাঁড় করিয়েছে। (কালিমাতুল ফসল ১১৩)

উত্তর: আপত্তিকারী হযরত মসীহে মওউদ(আ.) বা তাঁর খলীফাদের বক্তব্য বা লেখায় আপত্তি করার মত কিছু না পেয়ে শেষে এমন সব পুস্তক বা রচনা থেকে আপত্তি উত্থাপন করছেন যেগুলো আমাদের জন্য হুজ্জত নয়। এ প্রসঙ্গে আমাদের নীতিগত কথা হল, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.)-এর লিখিত রচনা ও পুস্তকাবলী আমাদের জন্য হুজ্জত এবং তার পরে তাঁর খলীফাগণের রচনাবলি বা তাদের বক্তব্য আমাদের জন্য হুজ্জত। এর বাইরে কে কী মন্তব্য করেছে আর কি বলেছে তার উত্তর দিতে আমরা বাধ্য নই। কেননা, সেগুলো তাদের ব্যক্তিগত অভিমত ও বিশ্লেষণ হিসাবে গণ্য হতে পারে। আহমদীয়া জামা’তের বক্তব্য সেটাই যেটা হযরত মসীহে মাওউদ(আ.) বা তাঁর কোন খলীফা বর্ণনা করেছেন। 

বাকি রইল উদ্ধৃত বক্তব্যের তাৎপর্য- এ কথা

আপত্তি : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দ্বারা দ্বীন প্রচারের কাজ পরিপূর্ণভাবে হয়নি। তিনি পূর্ণ প্রচার করেননি। আমি পূর্ণ করেছি। (রূহানী খাযায়েন ১৭/২৬৩, দ্র. টিকা)।

উত্তর: যেভাবে আপত্তিকারী লিখেছেন হযরত মির্যা সাহেব সেভাবে বিষয়টিকে বলেন নি। তিনি লিখেছেন, “যেহেতু মহানবী(সা.)-এর প্রতি অর্পিত দ্বিতীয় আবশ্যকীয় দায়িত্ব ছিল, হেদায়েতের প্রচার ও প্রসারের কাজকে পূর্ণতা দান করা কিন্তু মহানবী(সা.)-এর যুগে প্রচার মাধ্যম ও উপায়-উপকরণ না থাকায় এ কাজ বাস্তবায়ন অসম্ভব ছিল। এজন্যই পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকূ বিহিম’-এর মাঝে হুযূর(সা.)-এর পুনরায় আগমনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। যেন তাঁর প্রতি অর্পিত দ্বিতীয় আবশ্যকীয় দায়িত্ব অর্থাৎ হেদায়েতের পূর্ণ প্রচার ও প্রসারের কাজ সম্পন্ন হয় যা তাঁর হাতেই সম্পন্ন হবার কথা ছিল। প্রাথমিক যুগে উপায়-উপকরণ না থাকায় এটি সম্পন্ন হয় নি। অতএব, এই গুরুদায়িত্বকে মহানবী(সা.) তাঁর বুরুযী তথা রূপক আগমনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন আর এমন এক যুগে এসে তা সম্পন্ন করেছেন যখন বিশ্বের সকল জাতিতে ইসলামের বাণী পৌঁছানোর উপায়-উপকরণ সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল।” (রূহানী খাযায়েন, ১৭শ খ-, পৃষ্ঠা ২৬৩, পাদটিকা দ্রষ্টব্য) 

এ বক্তব্য পাঠ করে ভাল করে বুঝতে পারছেন, এতে হযরত মির্যা সাহেব রসূল(সা.)-কে খাটো করেন নি বরং তাঁর(সা.) বুরুযী আগমনের মাধ্যমে রসূলুল্লাহরই আধ্যাত্মিক বিকাশ হিসাবেই নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। অথচ আপত্তিকারী বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন মির্যা সাহেব মহানবী(সা.)-এর বিপরীতে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। মুহাম্মদ(সা.) হলেন শরীয়তবাহক শেষ নবী, পূর্ণাঙ্গীন নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর মাধ্যমে শরীয়ত পরিপূর্ণতা লাভ করেছে এবং খোদার পক্ষ থেকে ধর্মকে সম্পূর্ণ করা হয়েছে। হযরত মির্যা সাহেব তাঁর অনুসারী হয়ে তাঁর দাসত্বে সেই শরিয়তের বাণী ও শিক্ষাকে জগৎময় ছড়িয়ে দেয়ার ও প্রচারের দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন। বিষয়টি মালিক ও কামলার ন্যায়। মহানবী(সা.) হলেন মালিক। আর একজন কামলা তার মালিকের সম্পদ কাঁধে করে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। আপত্তিকারী তাঁর দাবি সম্পর্কে জানেন কিন্তু তা সত্ত্বেও এসব বক্তব্য খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে জনগণের মাঝে দূরভিসন্ধিমূলকভাবে ছড়াচ্ছেন।

Tuesday, May 8, 2018

আপত্তি : মির্যা সাহেব বিরূদ্ধবাদীদের গালি গালাজ করেছেন ।

উত্তর : হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.)-এর বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই শত্রুদের পক্ষ থেকে অপবাদ আরোপ করা হয় তিনি নাকি তার বিরুদ্ধবাদিদেরকে জঘন্য গালাগালি করেছেন। এরপর তারা একটি লম্বা তালিকা তুলে ধরে এর মাধ্যমে জনগণকে উসকানি দিয়ে থাকে। আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের পক্ষ থেকে যতবার এসব জঘন্য মিথ্যা অপবাদের যৌক্তিক উত্তর প্রদান করা হয় ততবারই তারা সেই সমস্ত যুক্তি এড়িয়ে গিয়ে আক্ষরিক ও শাব্দিক অর্থে সেই শব্দগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে থাকে। এ স্থলে আমরা সচেতন পাঠকের কাছে একটি ভিন্ন আঙ্গিকে এর উত্তর তুলে ধরছি যাতে সমাজে গোলযোগ ও ফিতনা সৃষ্টিকারীদের মুলোৎপাটিত হয়। 
কঠোর-বাক্য ব্যবহার সম্পর্কে মির্যা সাহেব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 
‘গালিগালাজ এক জিনিস আর প্রকৃত ঘটনার বিবরণÑ তা যতই অপ্রিয় ও তিক্তই হোক না কেন, আরেক জিনিস। প্রত্যেক সত্যবাদী ও সত্য বর্ণনাকারীর আবশ্যক দায়িত্ব হল, সত্য বক্তব্যকে প্রত্যেক উদাসীন বিরুদ্ধবাদীর কর্ণগোচর করানো। সেই বিরুদ্ধবাদী সত্য কথা শুনে অসন্তুষ্ট হলে হোক’ (রূহানী খাযায়েন খ--৩, ইযালায়ে আওহাম: পৃষ্ঠা ২০)। 
এ ধরনের উদাহরণ তথা সত্যের বর্ণনা পবিত্র কুরআনেও দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু কুরুচীপূর্ণ মানুষ সেগুলোকে বক্র দৃষ্টিতে দেখে আর খোদাভীরুরা এসব বক্তব্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যের প্রকাশ দেখে ঈমানে আরও বলিয়ান হয়ে নিজেদের দোষত্রুটি দূর করতে এবং প্রকৃত মুসলমান হতে চেষ্টা করে। 
কুরআন শরীফ পবিত্র গ্রন্থ এ বিষয়ে কারো কোন সন্দেহ নেই। এই পবিত্র কুরআনের সূরা বাইয়্যেনার ৭ নম্বর আয়াতে কাফেরদের বিষয়ে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, أُولَـٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ     অর্থাৎ ‘এরাই নিকৃষ্টতম জীব’। পাঠকবৃন্দ, ভাল করে চিন্তা করে দেখুন ‘র্শারুল বারিয়্যা’ অর্থ কি? এর অর্থ হচ্ছে, সব সৃষ্ট জীবের মাঝে নিকৃষ্টতম। ‘নিকৃষ্টতম জীব’ বলে যত নিকৃষ্ট ও নোংরা জীব-জন্তু ও নোংরা মানুষ রয়েছে তাদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তাহলে কাফেরদেরকে কোন ভাষায় মূল্যায়ণ করা হয়েছে, একবার ভেবে দেখুন? মহানবী(সা.) মিশকাত শরীফের একটি বিখ্যাত হাদীসে শেষ যুগের লক্ষণাবলী উল্লেখ করার পর সে যুগের আলেম-উলামাদের সম্পর্কে বলেছেন, 
علماؤهم شر من تحت أديم السماء من عندهم تخرج الفتنة وفيهم تعود
তাদের আলেমগণ আকাশের নি¤œস্থ সকল সৃষ্টজীবের মধ্যে নিকৃষ্টতম জীব হবে। তাদের মধ্য থেকে নৈরাজ্যের  সৃষ্টি হবে এবং তাদের মাঝেই তা ফিরে যাবে।” (মিশকাত, কিতাবুল ইলম)।
এই হাদীসে ‘র্শারুম মান তাহ্তা আদীমিস সামা’ বলার পর পৃথিবীর বুকের কোন নোংরা জীব বা নিকৃষ্ট মানুষ এর আওতা বহির্ভূত থাকে কি? এই পরিচ্ছদে মির্যা সাহেবের বিরুদ্ধে লেখকের প্রধান আপত্তি হল, মির্যা সাহেব শেষ যুগের আলেম-উলামাদের গালি দিয়েছেন। পাঠকবৃন্দ, মির্যা সাহেব নিজের থেকে কোন গালি দেন নি বরং আমাদের প্রিয় রসূল(সা.) শেষ যুগের আলেম-উলামাদের সম্পর্কে যা বলে গেছেন তারই ভাবানুবাদ করেছেন মাত্র। একইভাবে মহানবী(সা.)-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদীস কন্যুল উম্মালে বর্ণিত আছে, 
تكون في أمتي قزعة فيصير الناس إلى علمائهم فإذا هم قردة وخنازير
অর্থাৎ ‘আমার উম্মতে হঠাৎ বিরাট অস্থিরতা দেখা দিবে। মানুষ তখন তাদের আলেমদের শরণাপন্ন হবে কিন্তু তারা গিয়ে হঠাৎ দেখতে পাবে তারা শুকর ও বানরে পরিণত হয়েছে’। (কনযুল উম্মাল: ১৪শ খ-, হাদীস নম্বর-৩৮৭২৭)  
এটি মহানবী(সা.)-এর বাণী। এ হাদীসের যত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণই করা হোক, শব্দগুলো কিন্তু স্পষ্ট। অতএব, যে অর্থে যে কথা কুরআনে বলা আছে আর যে কথা রসূলে আকরাম(সা.) বলে গেছেন সে কথাই হযরত মির্যা সাহেব যথাস্থানে সেগুলোর অনুবাদ করে দিয়েছেন মাত্র। 
প্রত্যেক খোদাভীরু আলেমের দায়িত্ব সে যেন নিজের দিকে তাকিয়ে ইস্তেগফার করে যাতে সে রসূল(সা.)-এর এই সাবধান বাণীর আওতাভুক্ত না হয়। 
আপত্তি করা হয়, মির্যা সাহেব ‘যুররিয়াতুল বাগায়া’ তথা ‘বেশ্যার সন্তান’ অর্থে মুসলমানদেরকে গালি দিয়েছেন। 
প্রতিশ্রুত মসীহ্(আ.) যদি সত্যিই আয়েনায়ে কামালাতে ইসলাম গ্রন্থে মুসলমানদেরকে এই অর্থেই এমন গালি দিয়ে থাকেন তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি জঘন্য কাজ করেছেন এবং মুসলমানদের এতে ক্ষিপ্ত হবারই কথা।
কিন্তু যদি বিষয়টি এর উল্টো দাঁড়ায় তাহলে বুঝতে হবে বিরুদ্ধবাদীরা মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। প্রত্যেক শব্দের অনুবাদ তার পূর্বাপর ও বিষয়বস্তুর আলোকে করতে হয়। যেখানে শাব্দিক অর্থে বিষয়টি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় সেখানে তার গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ গ্রহণ করতে হয়। যেমন,‘ওয়া’তাসিমূ বিহাবলিল্লাহে জামীআ’। তোমরা সবাই সম্মিলিতভাবে আল্লাহ্র রজ্জুকে আঁকড়ে ধর। এখানে আল্লাহ্র রশি হিসাবে বাহ্যিক অর্থ করা সম্ভবই নয়। আল্লাহর রশি হিসেবে যদি আকাশ থেকে বাহ্যিক কোন দড়ি ঝুলানোও হয় আর একসাথে সব মুসলমান সেটিকে আঁকড়ে ধরতে চায় তাহলেও দশ বিশ জনের বেশি কেউ তা ধরতে পারবে না। অতএব, এর তাৎপর্যপূর্ণ গভীর অর্থ অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। আর তা হল, আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে প্রেরিত আল-কুরআনকে বা মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ(সা.)-কে অথবা যুগ-ইমামকে সবাই আঁকড়ে ধর। এছাড়া এর বাহ্যিক কোন অর্থ গ্রহণযোগ্য নয়। তেমনিভাবে সূরা বাকারার একেবারে প্রারম্ভেই সত্য অস্বীকারকারীদের ‘সুম্মুন বুকমুন উময়ুন’ বলা হয়েছে- এতে বাহ্যিকভাবে তাদেরকে বোবা, বধির বা অন্ধ বুঝানো হয় নি বরং আত্মিকভাবে বোবা, বোধির বা অন্ধ বলা হয়েছে। আমরা কেন এটিকে আত্মিকভাবে নিয়েছি? কেননা, পূর্বাপর আমাদেরকে এর বাইরে যাবার অনুমতি দেয় না। 
ঠিক একইভাবে, মির্যা সাহেব মুসলমানদের ‘বেশ্যার বংশধর’ বলে গালি দেন নি। ‘আয়েনায়ে কামালাতে ইসলাম’ পুস্তক ১৮৯৩ সালের লেখা। এই বইতে তাঁর অস্বীকারকারী মুসলমানদের বেশ্যার বংশধর বলার প্রশ্নই ওঠে না। 
‘আয়েনায়ে কামালাতে ইসলাম’ গ্রন্থে হযরত মির্যা সাহেব রাণী ভিক্টোরিয়াকে মুসলমান হবার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন মুসলমানদের মনোস্তুষ্টি করতে। তাহলে, কীভাবে সেই একই গ্রন্থে মুসলমানদেরকে তিনি জঘন্য ভাষায় গালি দিতে পারেন?
জানা আবশ্যক, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ(আ.) উক্ত বইয়ের আলোচ্য অংশে নিজের ইসলাম সেবার কথা তুলে ধরে বলেছেন: “আমার বয়স যখন ২০, তখন থেকেই আর্য সমাজীদের ও খ্রিষ্টানদের সাথে যুক্তিতর্কের মোকাবিলা করার ইচ্ছা আমার মনে সৃষ্টি হল। তদনুযায়ী আমি ‘বারাহীনে আহমদীয়া,’ ‘সুরমা চাশমায়ে আরিয়া’, ‘ইযালায়ে আওহাম’ এবং ‘দাফেউল ওয়াসাওয়েস’ প্রভৃতি পুস্তক রচনা করি। এগুলো ইসলামের সমর্থনে লেখা। প্রত্যেক মুসলমান এই বইগুলোকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার দৃষ্টিতে দেখে এবং এগুলোতে পরিবেশিত তত্ত্ব ও তথ্য দ্বারা উপকৃত হয় এবং তারা আমার ইসলামের দিকে আহ্বান করাকে সমর্থন দেয়। ‘ইল্লা যুররিয়াতুল বাগায়া আল্লাযীনা খাতামাল্লাহু আলা কুলুবিহিম ফাহুম লা ইয়াকবালূন’। ‘যুররিয়াতুল বাগায়া’ ছাড়া অর্থাৎ যাদের অন্তরে আল্লাহ্ মোহর মেরে দিয়েছেন, তারা ঈমান গ্রহণ করবে না (রুহানী খাযায়েন, ৫ম খ-, পৃষ্ঠা ৫৪৮)। এখানে মির্যা সাহেব ‘যুররিয়াতুল বাগায়া’ অর্থ কি তা স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছেন। এরা হল তারা যাদের হৃদয়ে আল্লাহ্ মোহর  মেরে দিয়েছেন। 
হযরত মির্যা সাহেব যখন ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ (ইসলাম ধর্মের পক্ষে দলিল-প্রমাণ সংবলিত) ও ‘সুরমা চশমায়ে আরিয়া’ (আর্য সমাজীদের অসারতা প্রমাণকল্পে) বই লিখলেন তখন আর্য সমাজীদের নেতা পেশাওয়ার নিবাসী প-িত লেখরাম উক্ত পুস্তিকাদ্বয়ের বিরুদ্ধে ‘খাবতে আহমদীয়া’ এবং ‘তাকযীবে বারাহীনে আহমদীয়া’ বই রচনা করে। এর প্রত্যুত্তরে দলমত নির্বিশেষে মুসলমানরা মির্যা সাহেবের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। মৌলবী মোহাম্মদ হোসেন বাটালভী হযরত মির্যা সাহেব লিখিত ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ পুস্তকের সমর্থনে একটি রিভিউ প্রকাশ করেন। একইভাবে লাহোরের মুসলিম বুক ডিপো নিজ খরচে মির্যা সাহেবের লেখা ‘সুরমা চশমায়ে আরিয়া’ বইটি পুনর্মুদ্রণ করে। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে গাল দেয়ার অভিযোগ তিনি তার একই বইতে মুসলমানদেরকে রাণী ভিক্টোরিয়ার জন্য দোয়া করতে বলেছেন যেন রাণী মুসলমান হয়ে যান (রুহানী খাযায়েন: ৫ম খ-, পৃষ্ঠা ৫২৬-৫২৭ পৃ) আবার ৫৩৫ পৃষ্ঠায় রাণীকে বলেছেন যে, হে রাণী ভিক্টোরিয়া! আপনি জেনে রাখুন, মুসলমানরা আপনার বিশ্বস্ত প্রজা। তাই আপনি তাদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিবেন এবং তাদের মনোস্তুষ্টির ব্যবস্থা করবেন।’ বইয়ের ৫৪০ পৃষ্ঠায় নেক উলামাদের প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘সমস্ত প্রশংসা সেই মহান অস্তিত্বের- যিনি আধ্যাত্মিক আলেমদের এবং মোহাদ্দেসীনদের নবীদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন এবং তাদের উত্তম তরবিয়ত করেছেন। যিনি রাণীকে মুসলমান হবার আহ্বান জানাচ্ছেন, যিনি মুসলমানদের মনোস্তুষ্টি করতে রাণীকে আহবান জানাচ্ছেন, যিনি আধ্যাত্মিক উলামাদের এত প্রশংসা করেছেন তিনি হঠাৎ তাদের এত জঘন্য ভাষায় গালি দিবেনÑ তা কেমন করে সম্ভব? যে ব্যক্তি হযরত মির্যা সাহেবের লেখা ‘আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম’ বইটি মনোযোগ সহকারে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পড়েছে সে এ জাতীয় কথা বলতেই পারে না। 
এছাড়াও ‘যুররিয়াতুল বাগায়া’-র অনুবাদ ‘বেশ্যার বংশধর’ করা ঠিক নয়। কেননা মির্যা সাহেব তথা লেখক নিজেই এ শব্দের অর্থ ‘বিদ্রোহী মানুষ’ করেছেন। মৌলবী সা’দুল্লাহ লুধিয়ানীকে ‘আঞ্জামে আথম’ পুস্তকে তিনি ‘ইবনু বাগা’ বলে সম্বোধন করেন এবং নিজেই এর অনুবাদ করেন: ‘হে বিদ্রোহী মানুষ’ (আল-হাকাম, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৭ সন)।
অতএব ‘যুররিয়াতুল বাগায়ার’ অর্থ হল বিদ্রোহীদের সন্তান। বলা বাহুল্য, আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আদিষ্ট মহাপুরুষকে যারা অমান্য বা অবজ্ঞা করে তারা অবাধ্য ও বিদ্রোহী। এ বিষয়টিই তিনি আরবীতে উপস্থাপন করেছেন। প্রবাদ-প্রবচনে শাব্দিক অর্থ কখনও গ্রহণ করা হয় না বরং এর অন্তর্নিহিত একটি অর্থ থাকে। একথা সব ভাষার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আরবী জানা সব আলেমও এটি ভালভাবে জানেন। যেমন ‘ইবনুস সাবীল’ বলতে রাস্তার ঔরসজাত সন্তান বুঝান হয় না বরং এ শব্দকে ‘পথিক’ বা ‘মুসাফির’ হিসাবে অনুবাদ করা হয়। কেবল উন্মাদই ‘ইবনুস সাবীল’-এর অর্থ ‘পথিক’ না করে ‘পথের ঔরসজাত সন্তান’ করবে। তাই এমন ব্যক্তি যে নিজেকে নিজে গালি দেয়ার শখ রাখে সে ছাড়া অন্য কেউ ‘যুররিয়াতুল বাগায়া’-র বিকৃত কোন অর্থ করবে না। আর লেখক যখন নিজের বক্তব্যে ব্যবহৃত কোন শব্দের অর্থ নিজেই করে দেন তখন কারও এতে অর্থ বিকৃতির অধিকার থাকে না। এর পরও যদি কেউ এর অর্থ ‘বেশ্যার বংশধর’ করেন তবে এটি অযথা নিজেকে নিজেই গাল দেয়ার মতো ব্যাপার হবে। মির্যা সাহেব এর জন্য দায়ী নন। 

আপত্তি: মির্যা সাহেব মৌলভী সা’দুল্লাহকে ‘হিন্দুর বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছেন। 
পাঠকবৃন্দের জানা থাকা দরকার, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) মৌলভী সা’দুল্লাহ্ সম্পর্কে ‘হিন্দুযাদ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে ‘হিন্দুর ছেলে’। প্রকৃতপক্ষেই মৌলভী সা’দুল্লাহ লুধিয়ানী হিন্দু থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মৌলভী সা’দুল্øাহ্র পিতা হিন্দু ছিলেন। এখানে মির্যা সাহেব তার পিতৃপরিচয় তুলে ধরেছেন। কিন্তু এর অনুবাদ করতে গিয়ে আপত্তিকারী হিন্দুর ছেলে না বলে ‘হিন্দুর বাচ্চা’ বলে বিকৃতকরে একে গালিররূপ দেয়ার অপচেষ্টা করেছেন। 
আপত্তিকারী যদি এরপরও এসবকে কুরুচিপূর্ণ জঘন্য গালি বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাহলে তার জন্য একটি শিক্ষনীয় ঘটনা তুলে ধরছি।
নিশ্চয় তিনি জানেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে সুহায়লের আগে মক্কার যে সব বড় বড় কাফের সর্দার হুদায়বিয়ার প্রান্তরে এসে চুক্তি করতে উদ্যত হয় তাদের মাঝে একজন ছিল উরওয়া। উরওয়া তার আলোচনার এক পর্যায়ে সাহাবীদের ঈমান এবং তাদের দৃঢ়তা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে বাজে মন্তব্য করে। তার এ কথায় পরোক্ষভাবে রসূলে করীম(সা.)-এর অবমাননাই নিহীত ছিল। তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক(রা.) সহ্য করতে না পেরে রসূলে করীম (সা.)-এর উপস্থিতিতে বলেছিলেন, 
فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ امْصُصْ بِبَظْرِ اللَّاتِ أَنَحْنُ نَفِرُّ عَنْهُ وَنَدَعُهُ
অর্থাৎ তখন আবু বকর(রা.) তাকে বললেন, তুমি লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খাও। আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাবো? (বুখারী কিতাবুশ শুরুত; ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত হাদীস নম্বর ২৫৪৭) 
এটা কি হযরত আবু বকর সিদ্দিক(রা.)-এর অশালীন চরিত্রের রূপ ছিল নাকি রসূলে করীম(সা.)-এর সম্মান রক্ষার্থে এবং তাঁর অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ছিল? যে অর্থে হযরত আবু বকর(রা.) কড়া জবাব দিয়েছেন সেই একই অর্থে হযরত মির্যা সাহেবের বক্তব্যও প্রযোজ্য হতে পারে।
আমরা আশা করি, হযরত আবু বকর(রা.) এর পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক উচ্চ মর্যাদা বিষয়ে আপত্তিকারীর ও দেওবন্দীদের কোন সংশয় নেই। আমরা আশা করি, দেওবন্দী আলেম হিসাবে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর এই বক্তব্যটি আক্ষরিক অর্থে গালিগালাজ হিসাবে তারা নিবেন না বরং তাঁর আত্মাভিমান লক্ষ্য করে রসূলের সম্মান রক্ষাকারী হিসাবেই তাঁকে বিবেচনা করবেন। 
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) কী কারণে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন তা ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন,
“বিরুদ্ধবাদীদের সাথে লিখিত তর্কযুদ্ধের সময় আমার পক্ষ থেকে কিছুটা কঠোর বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু কঠোর বাক্য ব্যবহারের সূচনা আমার পক্ষ থেকে হয় নি বরং এসব বক্তব্য চরম নোংরা আক্রমণের জবাবে লেখা হয়েছিল। বিরুদ্ধবাদীদের কথা এতই কঠোর ও নোংরা ছিল যার ফলে এর বিপরীতে এতটুকু কঠোর বাক্যের প্রয়োজন ছিল। একথার প্রমাণ হিসাবে আমি আমার পুস্তকাদির কঠোর বাক্য এবং বিরুদ্ধবাদীদের কঠোর বাক্য পাশাপাশি ‘কিতাবুল বারিয়্যাহ’ পুস্তকে তুলে ধরেছি। সেই সাথে এটিও মনে রাখতে হবে, আমি এসব বাক্য প্রত্যুত্তরে ব্যবহার করেছি। কঠোর বাক্যের সূচনা বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষ থেকে হয়েছিল। আমি চাইলে এসব নোংরা ভাষা শুনেও ধৈর্য ধারণ করতে পারতাম, কিন্তু দু’টি কারণে আমি তাদের উত্তর দেয়া সমীচীন মনে করেছি। প্রথমত, বিরুদ্ধবাদীরা তাদের কঠোর ভাষার উত্তর কঠোর ভাষায় পেয়ে যেন নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করে এবং ভবিষ্যতে যেন তারা শালীনতা বজায় রেখে আলোচনা করে। দ্বিতীয়ত, বিরুদ্ধবাদীদের চরম অবমাননাকর এবং উস্কানীমূলক এসব লেখার কারণে সাধারণ মুসলমানরা যেন উত্তেজিত হয়ে না যায় এবং কঠোরভাষার উত্তর কিছুটা কঠোর ভাষায় দেয়া হয়েছে দেখে যেন তারা নিজেদেরকে একথা ভেবে আশ্বস্ত করতে পারে, যাক কঠোর বাক্যের বিপরীতে কিছুটা হলেও কঠোর ভাষায় জবাব দিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এভাবে যেন তারা বর্বরোচিত প্রতিশোধ গ্রহণ করা থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে।” (কিতাবুল বারিয়্যাহ, রূহানী খাযায়েন ১৩শ খ-, পৃষ্ঠা ১১ ও ১২)।